| কেশবপুর উপজেলা |
|
১৮০২ খ্রীঃ কেশবপুর নামটি প্রথম শোনা যায়। কেশব পাটনির নাম ধরে থানার নাম হয় কেশবপুর। বৃটিশ-ভারতে মীর্জানগর সমৃদ্ধ ছিল। ১৭৮১ যশোর জেলা ঘোষনাকালেও যে থানার নাম ইতিহাসে আছে। উপজেলা হিসেবে ১৯৮২ সালের ১৫ ডিসেম্বর উদ্বোধন হয় এবং ২৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ০৯টি ইউনিয়ন এবং জনসংখ্যার পরিমাণ ২.২৬ লক্ষ। বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ এই উপজেলাতে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন যার মধ্যে শত তারকার চেয়ে এক চাঁদ যেমন উজ্জ্বল, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ঠিক তাই। আরও আছেন কথাশিল্পী মনোজ বসু, রাজনীতিবিদ জ্যোতি বসু, উপন্যাসিক রাম ভট্রাচার্য, কোলকাতা হাই কোর্টের প্রথম প্রধান বিচারপতি চারুচন্দ্র ঘোষ, কবি মানকুমারী বসু, অটল বিহারী দাশ, শিল্পী ধীরাজ ভট্রাচার্যসহ অনেকে। উল্লেখ্য, প্রথম নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব মোঃ গাজী এরশাদ আলী এবং প্রথম নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ সাজ্জাত হোসেন। এক নজরে যশোর কেশবপুর উপজেলা
১। উপজেলার আয়তনঃ ২৫৮.৫৩ বর্গকিলোমিটার ২। ইউনিয়নের সংখ্যাঃ ০৯ টি ৩। পৌরসভার সংখ্যাঃ ০১ টি ৪। গ্রামঃ ১৪৪ টি ৫। মোট জন সংখ্যাঃ ২,২৬,৩৬৭ জন ৬। মোট পুরুষের সংখ্যাঃ ১,১৬,২৬১ জন ৭। মোট মহিলার সংখ্যাঃ ১,১০,১০৬ জন ৮। বিশ্ব বিদ্যালয় কলেজ সংখ্যাঃ ০ ৯। মোট কলেজ সংখ্যাঃ ০৭ টি ১০। সরকারী কলেজের সংখ্যাঃ ০ ১১। বে-সরকারী কলেজ সংখ্যাঃ ০৭ টি ১২। মহিলা কলেজের সংখ্যাঃ ০১ টি ১৩। মোট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ৭২ টি ১৪। সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ০ ১৫। বে-সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ৭২ টি ১৬। সরকারী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ঃ0 ১৭। মোট মাদ্রাসার সংখ্যাঃ ৫৯ টি ১৮। দাখিল মাদ্রাসার সংখ্যাঃ ৪৬ টি ১৯। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যাঃ ৭০ টি ২০। রেজিষ্টার বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ ৭৩ টি ২১। কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ ০৯ টি ২২। এনজিও পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ ৯৮ টি ২৩। মোট জমির পরিমাণঃ ২৫,৯০৩ হেক্টর ২৪। আবাদী জমির পরিমাণঃ ৪৮,২৮২ হেক্টর ২৫। জলাভূমির পরিমাণঃ ৫৩৭ হেক্টর ২৬। বনভূমির পরিমাণঃ ২৭। কৃষি বকের সংখ্যাঃ ২৮ টি ২৮। পুকুরের সংখ্যাঃ ৬,১৭০ টি (৬৪১ হেক্টর) ২৯। বাওড়ের সংখ্যাঃ ১ টি ৩০। বিলের সংখ্যাঃ ২৫ টি ৩১। প্রবাহিত নদীর সংখ্যাঃ ৩ টি ৩২। খালের সংখ্যাঃ ২১ টি ৩৩। ঘেরের সংখ্যাঃ ৩,১৯৪ টি ৩৪। মোট নলকূপের সংখ্যাঃ ২,৮৪৪ টি ৩৫। মোট পরিবারের সংখ্যাঃ ৪৯,৯০০ টি
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের পরিবারের সাগরদাঁড়ী আবাসস্থলটি ঘিরে মধুপল্লী স্থাপিত হয়েছে। ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারী এ বাড়িতে মাইকেল মধুসূদন দত্ত জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রপিতামহ রামকিশোর দত্ত খুলনা জেলার তালা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। তাঁর পিতামহ রামনিধি দত্ত ছোট ভাইদের নিয়ে মামার বাড়ি সাগরদাঁড়ীতে চলে আসেন। রামনিধির চার ছেলের মধ্যে রাধামোহন আদালতের সেরেস্তদার, মদনমোহন মুন্সেফ, দেবীপ্রসাদ ও রাজনারায়ণ উকিল ছিলেন। রাজনারায়ন দত্ত কলকাতায় উকালতি করে প্রচুর অর্থশালী হয়েছিলেন। তিনি সাগরদাঁড়ীতে জমিদারি ক্রয় করেন ও বাড়িতে কিছু অট্রালিকা ও দেবালয় স্থাপন করেন। অপূর্ব নির্মাণশৈলীর দেবালয়টিতে প্রতিবছর দূর্গাপূজা হয়। এ বাড়ির পূর্ব পশ্চিম পার্শ্বে তার জাতিদের বাড়ি ও জমিদারির কাছারি রয়েছে। পশ্চিম পার্শ্বের বাড়িটিতে জন্ম নিয়েছিলেন মধুসূদনের ভ্রাতুস্পুত্রী কবি মানকুমারী বসু। ১৯৬৮ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বাড়িটি সংস্কার করে এবং ১৯৯৬-২০০০ সালে এলাকাটি দেয়াল বেষ্টিত করে একটি কুটিরের আদলে গেট, একটি মঞ্চ, দুটি অভ্যর্থনা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। এ সময় বাড়ির সমুদয় স্থাপনাকে পুনঃসংস্কার করে বর্তমান রূপ দেয়া হয়। মধুসূদনকে ঘিরে এখানে গড়ে উঠেছে জেলা পরিষদের ডাকবাংলো সাগরদাঁড়ী পর্যটন কেন্দ্র, মধুসূদন মিউজিয়াম। কপোতাক্ষের পাড়ে কবির স্মৃতি বিজড়িত কাঠবাদাম গাছ ও বিদায় ঘাট পর্যটকদের আকর্ষক করে। কথিত আছে ১৮৬২ সালে কবি যখন সপরিবারে সাগরদাঁড়ীতে এসেছিলেন তখন ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে জ্ঞাতিরা তাঁকে বাড়িতে উঠতে দেয়নি। তিনি এ কাঠবাদাম গাছের তলায় তাঁবু খাটিয়ে ১৪ দিন অবস্থান করে, বিফল মনে কপোতাক্ষের তীর ধরে হেঁটে বিদায়ঘাট হতে কলকাতার উদ্দেশ্যে বজরায় উঠেছিলেন। ১৯৬৫ সালে ২৬ অক্টোবর তদানীন্তন সরকার বাড়িটি পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে। মধুসূদনের পরিবারের ব্যবহার্য কিছু আসবাবপত্র অন্যান্য স্মৃতিচিহৃ নিয়ে এ বাড়িতেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মধুসূদন জাদুঘর। স্থাপিত হয়েছে লাইব্রেরী। সাগরদাঁড়ীতে রয়েছে অতিথিশালা ও পিকনিক কর্ণার। সরাসরি ঢাকা থেকে ৬ ঘন্টায় কেশবপুর আসা যায়। ঢাকা-কেশবপুর দূরত্ব ৩০৩ কিলোমিটার।
ধীরাজ ভট্রাচার্যের বাড়িঃ টেকনাফের মাথিনের কূপকে কেন্দ্র করে ধীরাজ-মাথিনের প্রেম কাহিনী একটি কালজয়ী উপাখ্যান। মাথিনের দারোগা বাবু ধীরাজ ভট্রাচার্য কেশবপুর উপজেলার পাঁজিয়া গ্রামে ১৯০৫ সালে জন্ম গ্রহণকরেন। ১৯২৪ সালে ধীরাজ তাঁর বাবার ইচ্ছেয় পুলিশের চাকরিতে যোগ দেন এবং আরাকান হিলস কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানায় কর্মরত হন। এ সময় তিনি মাথিনের প্রেমে পড়েন। তাঁর এ প্রেম ও পুলিশ বিভাগের চাকরির ঘটনাবলি নিয়ে লেখা তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘‘যখন পুলিশ ছিলাম’’। তাঁর পুলিশ জীবনের ইতিঘটে চলচ্চিত্রে অভিনয়ে যোগদানের মাধ্যমে। তিনি কলকাতায় বসবাস করলেও জন্মভূমি পাঁজিয়া ছিল তাঁর চারণক্ষেত্র। সময় সুযোগ পেলেই তিনি পাঁজিয়া আসতেন দূর্গাপূজোর সময় গ্রামের ছেলেদের সাথে নাটকে অভিনয় করতেন। তিনি দু’শ ছায়াছবিতে এবং পঞ্চাশটির মতো নাটকে অভিনয় করেছেন। ‘যখন নায়ক ছিলাম’ তার অপর কালজয়ী উপন্যাস ১৯৫৯ সালের ৪ মার্চ চলচ্চিত শিল্পের নায়ক ও সাহিত্যিক ধীরাজ ভট্রাচার্যের মৃত্যু হয়। কেশবপুর থেকে ৮ কিলোমিটার পূর্বদিকে পাঁজিয়া গ্রামে তাঁর পূর্ব পুরুষের দ্বিতল বসতবাড়ি, পাঁজিয়া হাইস্কুল ও নাট্যমঞ্চ ধীরাজের স্মৃতিধন্য।
মনোজ বসুর বাড়িঃ কথাশিল্পী মনোজ বসু ১৯০১ সালে ২৫ জুলাই কেশবপুরে ডোঙ্গাঘাটা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার কাব্যগ্রন্থঃবঙ্গলক্ষ্মী, বিচিত্রা, উপন্যাসঃ নিশিকুটুম্ব, ভুলিনাই, সৈনিক, বাঁশেরকেল্লা, গল্পঃ বনমর্মর, নরবাঁধ, ভ্রমন কাহিনীঃ চীন দেখে এলাম, নূতন ইউরোপ নূতন মানুষ, সোভিয়েতের দেশে, নাটকঃ নূতন প্রভাত, বিপর্যয়, রাখিবন্ধন, শেখ লগ্ন উল্লেখযোগ্য। তিনি সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার, শরৎচন্দ্র পুরস্কার, মতিলাল ঘোষ পুরস্কার পেয়েছিলেন। কেশবপুরের কৃতিসন্তান সুসাহিত্যিক মনোজ বসু ১৯৮৭ সালে ২৭ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। কেশবপুর থেকে পাঁজিয়া হয়ে ৮কিলোমিটার দূরে ডোঙ্গাঘাটা গ্রামের তাঁর বাড়িটি সাহিত্য প্রেমীদের আজও আকর্ষণ করে।
খাঞ্জালির দিঘীঃ কেশবপুর উপজেলার বিদ্যানন্দকাটি একটি প্রাচীন গ্রাম। হযরত খান জাহান আলী (রঃ) বারবাজার হতে বাগেরহাট যাওয়ার পথে বিদ্যানন্দকাটিতে কিছুদিন অবস্থান করেন। এ গ্রামের পশ্চিম পার্শ্বে বুড়িভদ্র নদীর তীরে একটি বিশাল দিঘী আছে। তাঁর শিষ্য বুড়া খাঁ ও বুড়া খাঁর পুত্র ফতে খাঁ দিঘীটি খনন করেন। দিঘী খননকালে এর দক্ষিণ পার্শ্বে থানটিতে খান জাহান আলী (রঃ) কিছুদিন অবস্থান করেছিলেন। তাঁর নামানুসারে স্থানীয়রা এটিকে খাঞ্জালির দিঘী বলে। দিঘীর পার্শ্বে একটি বটগাছ মাটি ছুঁয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে আছে। এখানে প্রতিবছর হযরত খান জাহান আলীর (রঃ) উদ্দেশ্যে মেলা বলে, প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে ভক্ত মানুষ এখানে আসে। মানতের বাতি জ্বালায়, দিঘীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৩০ মিটার এবং প্রস্ত ৩২২ মিটার। আয়তন ০.২২ বর্গ কিলোমিটার। শীতে এ দিঘীতে অতিথি পাখি আসে, শীত শেষে চলে যায়। উত্তর-দক্ষিণে দীর্ঘ এ দিঘী নিয়ে অনেক লোকগাথা প্রচলিত আছে।
শেখপুরা মসজিদঃ সাগরদাঁড়ী ইউনিয়নের একটি সমৃদ্ধ গ্রাম শেখপুরা। এ গ্রামে মোগল আমলে অনেক ইমারত নির্মিত হয়েছিল। এ সকল স্থাপনের মধ্যে শেখপুরা মসজিদটি অন্যতম। ১৯০৪ সালের পুরার্কীতি সংরক্ষণ আইনের ৩(৩) ধারা মতে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ১৯৯৭ সালে এটিকে পুরার্কীতি হিসেবে ঘোষণা করে ও এটি সংস্কার করে। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদটি মোগল স্থাপত্যরীতি অনুযায়ী নির্মিত। মসজিদের পূর্ব পার্শ্বের চার পিলারযুক্ত বারান্দাটি সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। এক মিটার পুরু দেয়ালে ঘেরা। এ চত্বরের প্রবেশ পথ দক্ষিণ ও উত্তর দিকে দু’টি। মুল স্থাপনাটির দৈর্ঘ্য ২১.৫ মিটার ও প্রস্থ ১৬.৬ মিটার এবং উচ্চতা ১২ মিটার। কেশবপুর হতে ১২ কিলোমিটার দূরে সাগরদাঁড়ী যাওয়ার পথে মধু সড়কের পার্শ্বেই এটি দেখে নেয়া যায়।
মির্জানগর নবাব বাড়ির হাম্মামখানাঃ কেশবপুর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে কপোতাক্ষ ও বুড়িভদ্রা নদীর সঙ্গমস্থলে মির্জানগর গ্রামে নবাব বাড়ির হাম্মাম খানার একটি ভগ্নাস্ত্তত রয়েছে। বাংলার সুবেদার শাহ শুজার শ্যালকপুত্র মীর্জা সাফসি খান ১৬৪৯ খ্রিঃ যশোরের ফৌজাদার নিযুক্ত হন। তিনি কেশবপুর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে কপোতাক্ষ ও বুড়িভদ্রা নদীর সঙ্গমস্থলে ত্রিমোহনী নামক স্থানে বসবাস করতেন। তাঁর নামে অনুসারে এলাকাটির নাম মির্জানগর। উক্ত স্থানে কিল্লাবাড়ি স্থাপন করেন। সুবিস্তৃত পরিখা খনন করে এবং ৮/১০ ফুট উচ্চ প্রাচীর বেষ্টিত করে এক অংশে বতক খানা, জোনানাসহ হাম্মামখানা (গোসল খানা) ও দূর্গের পূর্বদিকে সদর তোরণ নির্মাণ করেছিলেন। কামান দ্বারা দূর্গটি সুরক্ষিত ছিল, যে কামানটি বর্তমানে যশোরের মনিহার মোড়ে সংরক্ষিত আছে। বর্তমানে সেখানে হাম্মামখানা বাদে কিছু অক্ষত নেই। পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা ৪ কক্ষ বিশিষ্ট একটি কুপ সমেত হাম্মামখানাটি মোগল স্থাপত্য শৈলীর অনুকরণে নির্মিত হয়। স্থাপনাটি ৪ গম্বুজ বিশিষ্ট। ভরতের দেউলঃ কেশবপুর উপজেলা সদর হতে ১৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব কোন ভদ্রানদীর তীরে গৌরিঘোনা ইউনিয়নের ভরতভায়না গ্রামে ভরতের দেউল অবস্থিত। ১২.২০ মিটার উঁচু ২৬৬ মিটার পরিধি বিশিষ্ট দেউলটিকে একটি টিলার মত দেখায়। দেউলটি গুপ্ত যুগের খ্রিষ্টীয় ২য় শতকে নির্মিত হয়েছে বলে অনুমান করা হয়। ১৯২৩ সালের ১০ জানুয়ারী তদানীন্তন সরকার এটাকে পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করেন। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ১৯৮৪ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত দেউলের খনন কাজ চালাই। এর প্রথম অংশে আকারের স্থাপনা, দ্বিতীয় অংশে একটি মঞ্চ, তৃতীয় অংশে মূল মন্দির। খননের ফলে দেউলের ভিত থেকে চূড়া পর্যন্ত ৯৪টি কক্ষ দৃষ্ট হয়। স্থাপনাটির ৪ পার্শ্বে বর্ধিত আকারে ১২পিট কক্ষ। বাকী ৮২টি কক্ষ ক্রমান্বয়ে উপরের দিকে উঠে গেছে। দেউলটির চূড়ায় ৪পিট কক্ষ এবং পার্শ্বে ৮টি কক্ষ রয়েছে। স্থাপনাটির গোড়ার দিকে ৪ পার্শ্বে ৩ মিটার চওড়া রাস্তা রয়েছে। খনন কালের মধ্যে পোড়া মাটির তৈরী নারীর মুখমন্ডল, দেবদেবীর নৃত্যের দৃশ্য সম্বলিত টেরাকোটার ভগ্নাংশ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের এ যাবত প্রাপ্ত টেরাকোটার মধ্যে এটি বৃহৎ আকৃতির। তাছাড়া নকসা করার ইট, মাটির ডাবর, পোড়া মাটির গহনার মূর্তি পাওয়া গেছে। এ অঞ্চলে অন্য কোন পুরকীর্তিতে এত বড় আকারের ইট ব্যবহৃত হয়নি।
কালোমুখ হনুমান একটি বিপন্ন প্রাণী। এদের মুখমন্ডল কালো, লেজ শরীরের তুলনায় দেড়গুন লম্বা, বাদামি রঙের লোমে আবৃত। কেশবপুর উপজেলার সাহাপাড়া, বৃক্ষ্মকাটি, রামচন্দ্রপুর, বালিয়াডাঙ্গা, মধ্যকুল এলাকায় এদের বিচরণক্ষেত্র। ১৫-৩০ সদস্যের সমন্বয়ে এদের পারিবারিক অবস্থান। এরা দলবদ্ধভাবে ঘোরাফেরা করে। এদের মোট সংখ্যা প্রায় ৪০০। প্রতিটি স্ত্রী হনুমান প্রতি ছয় মাস অন্তর বাচ্চা প্রসব করে। রাতে উঁচু গাছের ডালে ঘুমিয়ে রাত্রি যাপন করে। এরা নিরামিষভোজী। সূর্যোদয় হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এরা খাবার গ্রহণ করে। এদের প্রিয় খাবার পাকা কলা, আম, কাঁঠালসহ অন্যান্য ফল, বাবলা গাছে কঁচি পাতা, মানুষের দেয়া রুটি, বাদাম, বিস্কুট ইত্যাদি। এদেরকে খাবার দিলে এগিয়ে এসে খাবার গ্রহণ করে। খাবার দিতে দেরি করলে কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। অভুক্ত হলে পথচারিদের কাপড় টেনে ধরে। খাবার পেলে খেয়ে চলে যায়। দল বেঁধে এরা চলাচল করে। এরা খুবই অনুভূতিশীল। এদের আঘাত করলে শত্রুকে প্রতিঘাতের মাধ্যমে প্রতিশোধ নেয়। একের বিপদে অন্যেরা এগিয়ে আসে। পাল্টা আক্রমণ চালায়, প্রতিবাদ জানায়। প্রাপ্ত খাবার ভাগাভাগি করে, আবার কখনও কাড়াকাড়ি করে খায়। এক সদস্যের মৃত্যুতে অন্য সদস্যরা সহমর্মী হয়ে মৃত্যুদেহের পাশে উপস্থিত হয়ে শোক প্রকাশ করে। টেলিভিশন, সিডি ও আয়নায় ছবি দেখে অনুভূতি প্রকাশ করে। তবে ছাতা উচুঁ করলে শিকারির বন্দুক ভেবে ভয় পায়, পালিয়ে যায়। অসুস্থতায় স্থানীয় পশু হাসপাতালে উপস্থিত হয়, চিকিৎসা নেয়। আঘাত প্রাপ্ত না হলে এরা হিংস্র হয়ে উঠে না। |