জেলা প্রশাসন
left_menu_pic
Joomla Slide Menu by DART Creations
left_menu_footer
চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

যশোর জেলার ভৌগলিক অবস্থানঃ-

যশোর শহর ভৈরব নদীর তীরে অবস্থিত। এ জেলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমে ঝিনাইদহ জেলা, উত্তর ও উত্তর-পূর্বে মাগুরা জেলা, পূর্বে নড়াইল, দক্ষিনে খুলনা জেলা এবং পশ্চিমে পশ্চিম বঙ্গ।

 

যশোর জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থাঃ-

যশোর জেলার রয়েছে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। এ জেলার রয়েছে উন্নত সড়ক, বিমান ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। সড়ক পথে দেশের সব জেলায় যাতায়াত করা যায়। সর্বোপরি প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথেও রয়েছে এশিয়ান হাইওয়ের মাধ্যমে যশোর জেলার সড়ক যোগাযোগ। এছাড়া শিল্প নগরী নওয়াপাড়া থেকে পানি পথে চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় জেলা গুলোতে যাতায়াত করা যায়।

 

যশোর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি সংক্রান্ত তথ্যঃ-

যশোর চেম্বার অব কমার্স এর সদস্য সংখ্যাঃ- ৪,৬৫৬ জন।

 

শিল্প ও বানিজ্য মেলার আয়োজন করাঃ-

যশোর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি প্রতি বছর যশোর শহরে ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে শিল্প ও বানিজ্য মেলার আয়োজন করে থাকে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা তাদের তৈরী ও অন্যান্য পন্যের প্রদর্শন ও বাজারজাত করনের সুযোগ পান। ভোক্তারাও সুলভ মূল্যে বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রী কেনার সুযোগ পান।

 

বিদেশী দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতদের সাথে ব্যবসায়ীদের আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করাঃ-

যশোর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বৈদেশীক দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের যশোর চেম্বারে আমন্ত্রন জানিয়ে থাকে। যশোরের ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা-বানিজ্যের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদী নিয়ে বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের সাথে খোলা মেলা পরিবেশে আলোচনা করার সুযোগ পান এবং আমদানী রপ্তানী বিষয়ে গুরুত্বপূর্ন আলোচনা করতে পারেন।

 

বিদেশে অনুষ্ঠিত শিল্প ও বানিজ্য মেলায় যশোরের ব্যবসায়ীদের অংশ গ্রহনের ব্যবস্থা করাঃ-

যশোর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি এফবিসিসিআই কর্তৃক সরবরাহকৃত বৈদেশিক শিল্প ও বানিজ্য মেলার তালিকা অনুযায়ী যশোরের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যারা আগ্রহী তাদেরকে বিভিন্ন বিদেশী শিল্প ও বানিজ্য মেলায় অংশ গ্রহনের ব্যবস্থা করে থাকে।

 

প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় যশোর চেম্বারের ভূমিকাঃ-

 

প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় যশোর চেম্বার বরাবরই গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে থাকে। জেলার দক্ষিন -পশ্চিম অঞ্চলে ২০০০ সালে অভূতপূর্ব বন্যার সময় যশোর চেম্বার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের মধ্যে ত্রান বিতরন করে। এছাড়া সিডর আক্রান্ত এলাকায় খাদ্য বস্ত্রসহ অন্যান্য ত্রান সামগ্রি বিতরন করে।

দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রনে যশোর চেম্বারের ভূমিকাঃ-

দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রনে যশোর চেম্বার সব সময় অগ্রনী ভূমিকা পালন করে থাকে। এ উদ্দেশ্যে যশোর চেম্বার জেলার বিভিন্ন এলাকায় ন্যায্য মূলের বাজার বসিয়ে থাকে এবং বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রনে আছে কিনা তা মনিটরিং করে থাকে।

 

দুঃস্থ্য মানুষের সহযোগিতায় যশোর চেম্বারঃ-

দুঃস্থ্য মানুষের মাঝে যশোর চেম্বারের কর্মকর্তাবৃন্দ শীত বস্ত্র বিতরন করে থাকেন। এছাড়া গরীব দুঃখী মানুষকে অর্থ সাহায্য দিয়ে থাকেন।

 

নারী উদ্যোক্তাঃ-

যশোর চেম্বারের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু নারী উদ্যোক্তা আছেন। তাদের তৈরী হস্ত শিল্প দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হয়ে থাকে। এছাড়া এ সব নারী উদ্যোক্তার তৈরী হস্ত শিল্প বিদেশেও রপ্তানী হয়ে থাকে।


যশোর জেলার শিল্প ও বানিজ্যঃ-

যশোর চেম্বারে অধিন প্রায় দুইশতাধীক আমদানী কারক আছেন। তারা ভারতসহ অন্যান্য দেশ থেকে বিভিন্ন দ্রব্য আমদানী করে থাকেন।

যশোর চেম্বারের অধীন ৩৫জনেরও বেশী রপ্তানী কারক আছেন। তারা ভারতসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের উৎপাদিত বিভিন্ন দ্রব্য রপ্তানী করার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনে সরকারকে সহায়তা করে থাকেন।

 

আমদানী দ্রব্য সমূহঃ-

মোটর গাড়ী, গাড়ীর চ্যাচিচ, মোটর সাইকেল, অটোমোবাইল স্পেয়ার, চাউল, ফল, গার্মেন্টেসের কাঁচামাল, রং, মুরগীর ডিম, বাচ্চা মুরগী, ডাল, পিয়াজ, রসুন, মসলা, আদা, মরিচ, আলু, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, রাইস মিল, স্পেয়ার, ইমিটেশনের গহনা, প্রসাধনী দ্রব্য ইত্যাদি।

 

রপ্তানী দ্রব্য সমূহঃ-

ইলিশ মাছ, চালের কুড়া, গার্মেন্টেসের ঝুট, জামদানী শাড়ী, সাবান, পাট, পাটজাত দ্রব্য, জিংক প্লেট, পাজামা, সর্ট প্যান্ট, লুঙ্গী, সুপারী, ঝাটার কাটি, রুলার মেশিন, সোফাসেট, মেহগনীর ফল, ব্লাক কার্প, ধনীয়া, তিল, শীসা, চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য ইত্যাদি।

শিল্পঃ-

বিপুল সম্ভাবনাময় যশোর জেলায় রয়েছে সর্বমোট ১৩,৪০৬টি শিল্প কারখানা এবং ৩০০টি কারুপল্লী।

বৃহৎ শিল্প

মাঝারী শিল্প

ক্ষুদ্র শিল্প

কুটির শিল্প

৯টি

৩৫টি

২৪৮১টি

৯৮০৮টি


বৃহৎ শিল্পের সংখ্যা বিন্যাসঃ-

জুটমিল ০৫টিঃ সরকারী ০৩টি, বেসরকারী ০২টি।

 

মাঝারী শিল্পের সংখ্যা বিন্যাসঃ-

সিগারেট ফ্যাক্টরী - ১টি।

সিমেন্ট ফ্যাক্টরী - ১১টি।

অফসেট ছাপাখানা - ৩টি।

পাটের সুতার মিল - ১টি।

বিড়ি ফ্যাক্টরী - ১টি।

রি-রোলিং ফ্যাক্টরী - ১টি।

কোল্ড ষ্টোরেজ - ৭টি।

ময়দা ও বিস্কুট ফ্যাক্টরী - ১০টি।

 

প্রধান প্রধান ক্ষুদ্র শিল্পঃ-

মৌল ধাতব শিল্প, বস্ত্রকল, কাঠ ও আসবাবপত্র, ঔষধ শিল্প, কাগজ ও মুদ্রন শিল্প, হালকা প্রকৌশল কারখানা, রাবারজাত শিল্প, মৎস হ্যাচারী, মুরগীর খামার, মৎসা প্রক্রিয়াজাত করন শিল্প, বল পয়েন্ট শিল্প।

 

প্রধান প্রধান কুটির শিল্পঃ-

খেজুর গুড় ও পাটালী তৈরী, নারিকেলের ছোবড়ার কাঁতা ও কুশন, নকশী কাঁথা, বাঁশ-বেত শিল্প, খেজুর পাতার মাদুর, মৃৎশিল্প, তাঁত শিল্প, জুয়েলারী ও স্বর্ন শিল্প, কামার শিল্প।


যশোর জেলার শিল্পের সমস্যাঃ-

যশোর জেলা সস্তা শ্রমের সহজলভ্যতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মুক্ত এলাকা হওয়ায় এ জেলায় শিল্পের উজ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তুু প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ না থাকায় যশোরে গড়ে ওঠা অনেক প্রতিষ্ঠান অলাভ জনক হয়ে পড়ার ফলে একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হলে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প কারখানা গুলি পুনরায় চালু হওয়ার পাশা পাশি নতুন নতুন শিল্প গড়ে ওঠার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।


বেনাপোল স্থল বন্দরঃ-

দেশের সর্ববৃহৎ স্থল বন্দর যশোর জেলার সীমান্তবর্তী বেনাপোলে অবস্থিত। বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে ভারতের সাথে আমদানী রপ্তানী বানিজ্যের মাধ্যমে প্রতি বছর ১৫০০ কোটি টাকা থেকে ২০০০ কোটি টাকা রাজস্ব হিসাবে সরকারী কোষাগারে জমা হয়।


জেলার উৎপন্নদ্রব্যঃ-

ধান, পাট ও শাক-শব্জী যশোর জেলার প্রধান কৃষি উৎপন্ন দ্রব্য। তবে খেজুর গুড় ও পাটালির জন্য যশোর জেলা প্রসিদ্ধ। এছাড়াও যশোরের চাঁচড়া মৎস হ্যাচারী গুলিতে উৎপন্ন হয় দেশের মোট চাহিদার ৪০% মৎস পোনা। জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি এলাকায় ব্যাপক ফুলের চাষ হয়। দেশের চাহিদার একটি অংশ পুরন করে এসব ফুল বিদেশেও রপ্তানী হয়ে থাকে।


জেলার নদ-নদীঃ-

ভৈরব, কপতাক্ষ, মুক্তেশ্বরী ও চিত্রা যশোর জেলার উল্লেখযোগ্য নদ-নদী। নওয়াপাড়া শিল্প শহর এ জেলার একমাত্র নদী বন্দর।

 


নদী কেন্দ্রীক শিল্পঃ-

যশোর জেলার অভয়নগর থানার নওয়াপাড়া এলাকায় ভৈরব নদীর নাব্যতা থাকায় সেখানে বার্জ জাতীয় ছোট খাটো নৌ যান চলা চল করে। ফলে নওয়াপাড়া নৌ বন্দরকে কেন্দ্র করে এর আস পাশে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি পাট কল, টেক্সটাইল মিল ও সিমেন্ট ফ্যাক্টরী। এছাড়া নওয়াপাড়া শিল্প নগরী

পরিনত হয়েছে একটি গুরুত্ব পূর্ন আমদানী রপ্তানী কেন্দ্রে। এখান থেকে সড়ক ও জল পথে সার, চাউল, গম, চিনি, সিমেন্ট, পাথর সহ বিভিন্ন দ্রব্য উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ হয়ে থাকে।


অন্যান্যঃ-যশোর জেলায় রয়েছে


১টি বিমান বন্দর,

১টি সেনা নিবাস,

১টি এয়ার বেস,

১টি বিডিআর ব্যাটালিয়ন হেড কোয়াটার,

১টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,

১টি শিক্ষা বোর্ড,

১টি মেডিকেল কলেজ (নির্মানাধীন),

১টি পলিটেকনিক ইনসটিটিউট,

১টি বি. এড কলেজ,

১টি প্রাইমারী টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউট,

 


যশোর জেলার ঐতিহ্যঃ-


· মুড়লীস্থ হাজী মোহাম্মদ মহসিন ইমাম বড়া।

· চাঁচড়াস্থ ইতিহাস খ্যাত চাঁচড়ার রাজবাড়ী।

· মুন্সি মেহেরুল্লার জন্ম স্থান ছাতিয়ানতলা গ্রাম।