| শিক্ষা প্রতিবেদন |
|
যশোরের শিক্ষার অতীত ঐতিহ্যে ব্রিটিশ সৃষ্ট জেলাগুলির মধ্যে একটি অন্যতম জেলা যশোর। এই জেলার শিক্ষা ব্যবস্থায় রয়েছে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য। এক সময় যশোর জেলায় বৃত্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন ছিল অর্থাৎ পাঠ্যপুস্তক নয় বরং প্রত্যেকে তাদের নিজ বৃত্তি অনুসারে সন্তানদের শিক্ষা দিত। সুলতানী আমলে মুসলমানদের স্বতন্ত্র শিক্ষা ব্যবস্থা অর্থাৎ মসজিদকেন্দ্রিক আরবী, ফরাসী ও ভাষা সাহিত্য শিক্ষাদান পদ্ধতি গড়ে উঠে। এসময়ে টোল, পাঠশালা ও মক্তবে বাংলা, সংস্কৃত ও গণিত শিক্ষার বিস্তার ঘটে। ব্রিটিশ উপনিবেশকালে এ জেলায় ইংরেজী শিক্ষার সূত্রপাত ঘটে। ধর্ম উপযাজকেরা ধর্ম প্রচারের পাশাপাশী বিভিন্ন মিশনারী স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করে। এরকম একটি মিশন স্কুল হল ‘‘সেক্রেড হার্ট’’।
প্রাথমিক শিক্ষাঃ যশোর জেলার অতীত ও বর্তমান শিক্ষার হার ও প্রাথমিক বৃত্তি, জুনিয়ার বৃত্তি, এস এস সি এবং এইচ এস সি পাশের হার প্রশংসানীয়। প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা অন্যান্য জেলার তুলনায় অনেকখানি এগিয়ে আছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের রিপোর্ট অনুয়ায়ী ২০০৯ সালে যশোর জেলায় ১০ ক্যাটাগরির প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষা বিস্তারে কাজ করছে। এর মধ্যে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়েরে সংখ্যা ৬৬২টি, রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৮৯৩টি, কিন্ডার গার্টেন ১১৯টি, এবতেদায়ী (স্বতন্ত্র) ৮৪টি, এবতেদায়ী উচ্চ মাদ্রাসা সংযুক্ত ২২৭টি, এনজিও পরিচালিত শিক্ষা কেন্দ্র ৪৫৭টি এবং অন্যান্য প্রথিমিক বিদ্যালয় ১৪৮টি। বিগত ২০০৮ সালের প্রাথমিক বৃত্তি প্রাপ্ত পাশের হার ৯১.৬৭। ২০০৮ সালে যশোর জেলা সমগ্র বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে। ২০০৯ সালে প্রথম শ্রেণী হতে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিশু ভর্তির মোট সংখ্যা ১,৪৭,১৭০ জন।
মাধ্যমিক শিক্ষাঃ ২০০৮ সালে জেলা প্রশাসন থেকে প্রকাশিত অষ্টম শ্রেণী মূল্যায়ন পরীক্ষার প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, এই জেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫১৭টি, দাখিল আলিমও ফাযিল মাদ্রাসার সংখ্যা ৩১৪টি। বিগত ২০০৯ সালের যশোর বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার সেরা দশ স্কুলের মধ্যে যশোর জিলা স্কুল, সরকারী বালিকা বিদ্যালয় ও আকিজ উচ্চ বিদ্যালয় (পাশের হার ১০০%) স্থান পায়।
উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক শিক্ষাঃ উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ৭৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কলা, বিজ্ঞান, বাণিজ্য এবং ব্যবসা ব্যবস্থপনা শাখা রয়েছে। কারিগরী শিক্ষার জন্য স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এখানে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, পলিটেকনিক কলেজ, আইন কলেজ ও টিচার্স ট্রেনিং কলেজ রয়েছে। সম্প্রতি উদ্বোধনকৃত যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় যশোরের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে। এখানে প্রাচীন ও ঐতিহ্যেমন্ডিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে মাইকেল মধুসূদন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সরকারী সিটি কলেজ, যশোর সরকারী মহিলা কলেজ, যশোর জিলা স্কুল, দাউদ পাবলিক স্কুল এবং পাঁজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। এছাড়াও বাংলাদেশ সরকার যশোর জেলায় একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করেছে। উক্ত মেডিকেল কলেজ প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। |